পু’ড়ে গিয়েছে সারা শ’রীরির, তবু সেই মেয়েকেই বিয়ে করবে হবু বর !

পু’ড়ে গিয়েছে সারা শ’রীরির, তবু সেই মেয়েকেই বিয়ে করবে হবু বর !

বঙ্গ সমাজে কথিত রয়েছে বিবাহের সাত পাক একবার আবদ্ধ হওয়ার অর্থ আগামী সাত জন্মের বন্ধনে নিজেকে বেঁধে ফেলা। কথাটি আপাতভাবে মৌখিক হলেও রয়েছে কিছু এমন কিছু বাস্তব ঘটনা, যা আপনার টনক নড়াতে বাধ্য আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই একটি ঘটনার কথা। শুনে মনে হতেই পারে এটি আদপে বাস্তব হয়, অভিনয়ের জগতেই সম্বভ। পু’ড়ে যাওয়ার কারণে একটি মেয়েটির হাত পা কাটতে হবে, তারপরেও সেই মেয়েকেই বিয়ে করতে চাইছে তার সঙ্গী। চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ ঘটনাটি কী?

ঘটনাটি হিরল নামক একটি মেয়ের এবং চিরাগ নামক একটি ছেলেকে কেন্দ্র করে। যারা বুঝিয়ে দিয়েছেন ভালোবাসা যেমন মানুষকে ভাল পথে চালিত করতে পারে, তেমনই খারাপ পথেও। জামনগর জেলার ডাবাসন গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছরের হিরল তানসুখ ভাদার বারগামাতে থাকে এবং তার বিবাহ ঠিক হয়েছিল ২৮ শে মার্চ জামনগরের চিরাগ ভারেশিয়া গাজ্জারের সঙ্গে। কিন্তু তাদের জন্য লিখে রেখেছিল অন্য একটি প্লট।

১১ মে হিরল কাপড় ধুয়ে শুকানোর জন্য জানলার কাছে পৌঁছায় এবং যখনি সে হাত বাইরে বের করে ঠিক সেই সময় বিদ্যুতের তারে তার হাত লেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত এবং পায়ের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় এবং সে পু’ড়ে যায়।

হিরলকে ততক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুরু হয় তার চিকিৎসা। যদিও দিন চারেক পরেই হাল ছেড়ে দেন ডাক্তাররা। চিকিৎসকরা একপ্রকার আত্মসমর্পণ করে দেন এবং তাকে আমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।

ওখানে ডাক্তাররা বলেন, “হিরলের ডান হাত এবং দুটি পায়ের হাঁটু কেটে বাদ দিতে হবে। যদি দুর্ঘটনার ৪৮ ঘন্টা বাদেই তাকে এখানে নিয়ে আসা হতো তবে পরিস্থিতি আজ অন্য কিছু হত।” ঘটনাটি যখন হিরলের অভিভাবক জানতে পারেন তখন স্বভাবতই তারা হতাশ হয়ে পড়ে।

এখন তাদের মেয়েকে কে বিয়ে করবে? হিরলের বাকিটা জীবন কেমন ভাবে কাটবে? হিরলের বাবা-মাকে চিন্তার মধ্যে দেখে চিরাগ বলে যে সে হিরলকেই বিয়ে করবে। চিরাগের সিদ্ধান্তের সমর্থন চিরাগ-এর বাবা-মা’ও করেছেন।

হিরল সাংবাদিকদের বলেন যে “৩-৪ দিন পর্যন্ত আমার কোন জ্ঞান ছিল না এবং যখন জ্ঞান আসে তখন বুঝতে পারলাম যে আমার হাত পা কেটে ফেলা হবে, আমি ভেঙে পড়ি এবং পরিবারের কাছে মৃত্যু চাই, কিন্তু চিরাগের সিদ্ধান্ত জানার পর মনে হয়েছে এখনো পৃথিবীতে ভালো মানুষ আছে, আমি চিরাগের প্রতি গর্বিত এবং হাসপাতালে চিরাগ আমার সাথে ছিলেন সবসময়।

তিনি হাসপাতালে আমার সাথে একই সাথে থাকেন যাতে তিনি আমার সেবা যত্ন করতে পারে, চিরাগের মাতা পিতা আমাকে এই অবস্থায় স্বীকার করছে এটা আমার সৌভাগ্য।”

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2019 bdsangbad71